ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬

প্রিয় পাঠকবৃন্দ, আপনারা অনেকে ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬ এর নিয়ম এবং নতুন সংযোগের খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি সেই সম্পর্কে খুঁটিনাটি সকল তথ্য আলোচনা করব। আপনি যদি পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার সংযোগ এবং অনলাইন আবেদনের সকল তথ্যগুলো একসাথে সঠিকভাবে জানতে চান, তাহলে এই লেখাটি একবার মনোযোগ দিয়ে পড়ে নিন।

এই লেখাটি পড়লেই আপনি অনলাইনে আবেদনের সঠিক ওয়েবসাইট, নতুন মিটার আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে, ২০২৬ সালের সর্বশেষ আবেদন ফি ও জামানত কত, খালি জায়গায় বা নতুন ঘরে মিটারের জন্য আবেদনের শর্তাবলী, এবং ট্র্যাকিং আইডি দিয়ে আবেদনের অবস্থা চেক করার নিয়মসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

পোস্ট সুচিপত্রঃ ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬

ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬

আপনি কি নতুন বাড়ি বা দোকানের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ মিটারের আবেদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন? বর্তমানে দালালদের খপ্পরে না পড়ে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনের আগে আপনার ছবি এবং জমি জমার সঠিক তথ্য হাতের কাছে রাখুন।

আবেদন শুরু করার আগে আপনার ফোন বা ল্যাপটপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো স্ক্যান করে সুন্দর করে গুছিয়ে নিন। সঠিক মোবাইল নম্বর এবং ন্যাশনাল আইডি কার্ডের তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার কোনো ভয় থাকে না। মনে রাখবেন, সার্ভিস পোল থেকে আপনার বাড়ির দূরত্ব অবশ্যই ১৩০ ফুটের ভেতরে হতে হবে।

অনলাইনে ফর্ম পূরণ শেষ হলে আপনাকে একটি ট্র্যাকিং আইডি এবং পিন নম্বর দেওয়া হবে। এই আইডিটি খুব সাবধানে কোথাও লিখে রাখুন কারণ পরবর্তীতে আবেদনের অবস্থা চেক করতে এটি লাগবে। নিয়ম মেনে সঠিকভাবে আবেদন করলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই আপনি নতুন মিটার সংযোগ পেয়ে যাবেন।

আবেদন ফি এবং জামানতের টাকা এখন খুব সহজেই বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে ঘরে বসে জমা দেওয়া যায়। টাকা জমা দেওয়ার পর রশিদটি সংগ্রহ করুন এবং অফিসের নির্দেশের জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করুন। এভাবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার পেয়ে যাবেন।

আবেদন করতে কী কী ডকুমেন্ট বা ফাইল সাথে রাখবে

প্রথমেই আপনার নিজের এক কপি পরিষ্কার পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সামনের ও পিছনের দিকের ছবি তুলে নিন। এছাড়া আপনার জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য সর্বশেষ নামজারি বা পর্চার কপিটি স্ক্যান করে ফোনের একটি ফোল্ডারে গুছিয়ে রাখুন। মনে রাখবেন, ছবির সাইজ যেন খুব বেশি বড় না হয়, এতে আপলোড করতে সুবিধা হবে।

আরো পড়ুনঃ গরমে ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন ঠাণ্ডা রাখার ১০টি কার্যকরী উপায় ২০২৬

এরপর আপনার বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে নেওয়া নাগরিকত্ব সনদের একটি ছবি তুলে নিন। আপনার বাড়ির সবচেয়ে কাছের যে খুঁটি বা সার্ভিস পোল থেকে সংযোগ নেওয়া হবে, সেই খুঁটির নম্বরটি আগেভাগেই ডায়েরিতে লিখে রাখুন। এছাড়া আপনার পাশের বাড়ির কারও মিটারের বই নম্বর ও হিসাব নম্বর সংগ্রহ করা থাকলে কাজটা আরও সহজ হয়ে যাবে।

সবশেষে আপনার বাড়ির হাউজ ওয়্যারিং সম্পন্ন হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য একটি গ্রাউন্ড রড কেনার রশিদ বা মেমো সাথে রাখুন। আবেদনের সময় আপনার একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যাতে পরবর্তীতে সকল আপডেট এসএমএস-এর মাধ্যমে পেতে পারেন। এই সব ফাইল গুছিয়ে নিয়ে বসলে আপনি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবেদনের কাজ শেষ কর

নতুন সংযোগ পাওয়ার জন্য আবশ্যিক শর্তসমূহ

আপনি কি জানেন পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে? প্রথমেই নিশ্চিত করুন যে আপনার বাড়ি বা প্রতিষ্ঠান থেকে বিদ্যুতের মেইন খুঁটির দূরত্ব যেন ১৩০ ফুটের বেশি না হয়। এই দূরত্বের সীমা পার হয়ে গেলে সাধারণ নিয়মে সংযোগ পাওয়া আপনার জন্য বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।

আরো পড়ুনঃ দ্রুত ওজন কমানোর জন্য ৭ দিনের ডায়েট চার্ট

আবেদন করার আগে আপনার ঘরের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বা হাউজ ওয়্যারিং পুরোপুরি শেষ করা বাধ্যতামূলক একটি শর্ত। এছাড়াও সঠিক মানের একটি গ্রাউন্ড রড স্থাপন করে তার কেনার অরিজিনাল রশিদটি আবেদনের সময় আপলোড করার জন্য তৈরি রাখুন। মনে রাখবেন, ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিলে আপনার মিটারের আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অনলাইনে আবেদন করার সময় আপনার নিজের নামে একটি সচল এবং ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা খুবই জরুরি। কারণ আবেদনের ফি জমা দেওয়া থেকে শুরু করে মিটারের সকল আপডেট তথ্য আপনাকে এসএমএস এর মাধ্যমে জানানো হবে। এই সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো মেনে চললে আপনি কোনো ঝামেলা ছাড়াই দ্রুত নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে যাবেন।

ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন করার ধাপসমূহ (Step-by-Step)

আপনি কি জানতে চান কীভাবে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে মিটারের আবেদন সম্পন্ন করবেন? এই প্রক্রিয়াটি মূলত কয়েকটি সহজ ধাপের মাধ্যমে অনলাইনে সম্পন্ন করা যায় যা আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে। প্রথমে আপনার ডিভাইসের ব্রাউজার থেকে পল্লী বিদ্যুতের অফিসিয়াল লিংকে প্রবেশ করে ‘আবেদন করুন’ বাটনে ক্লিক করে ফরমটি ওপেন করে নিন।

ফরমটি আসার পর আপনার এলাকা অনুযায়ী সঠিক সমিতি এবং জোনাল অফিস নির্বাচন করে আপনার নাম ও ঠিকানাসহ ব্যক্তিগত তথ্যগুলো ইনপুট দিন। আপনার সংযোগটি যদি সাধারণ বাড়ির জন্য হয় তবে ট্যারিফ হিসেবে এলটি-এ (LT-A) অপশনটি সিলেক্ট করতে ভুলবেন না। এই ধাপে আপনার এনআইডি কার্ডের তথ্য এবং জমির দাগ ও খতিয়ান নম্বরগুলো খুব সাবধানে ইংরেজি অক্ষরে পূরণ করুন।

সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং এনআইডি কার্ডের পরিষ্কার স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট ঘরে আপলোড করে দিন। এরপর আপনার হাউজ ওয়্যারিং এবং গ্রাউন্ড রড স্থাপনের তথ্য নিশ্চিত করে আবেদনটি সাবমিট করলে একটি ট্র্যাকিং আইডি ও পিন নম্বর পাবেন। সবশেষে আবেদন ফি অনলাইনে জমা দিলেই আপনার কাজ শেষ এবং পরবর্তী ধাপগুলো অফিসের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

ট্র্যাকিং আইডি ও আবেদনপত্র ডাউনলোড করার পদ্ধতি

আপনি কি অনলাইনে ফর্মটি সাবমিট করার পর ট্র্যাকিং আইডি এবং পিন নম্বরটি কোথায় পাবেন তা নিয়ে চিন্তিত? মনে রাখবেন, আবেদনটি সফলভাবে জমা দেওয়ার সাথে সাথেই স্ক্রিনে একটি ট্র্যাকিং নম্বর এবং পিন কোড ভেসে উঠবে। এটি পাওয়ার পরপরই স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন অথবা আপনার পার্সোনাল ডায়েরিতে খুব সাবধানে লিখে সংরক্ষণ করুন।

আরো পড়ুনঃ হামের লক্ষণ ও প্রতিকার সুস্থ থাকতে যা জানা জরুরি

আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করার জন্য ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট লিংকে গিয়ে আপনার সেই ট্র্যাকিং আইডি এবং পিন নম্বরটি ব্যবহার করতে হবে। সঠিক তথ্য দেওয়ার পর আপনার পূরণ করা ফর্মটি পিডিএফ আকারে ফোনে সেভ হবে যা পরবর্তীতে প্রিন্ট করে নেওয়া যাবে। এই কপিটি যত্ন করে রাখুন কারণ মিটার সংযোগের চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করার সময় এটি আপনার প্রয়োজন হতে পারে।

হাউজ ওয়্যারিং নিশ্চিতকরণ ও গ্রাউন্ড রড মেমো আপলোড

আপনি কি জানেন যে পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার পাওয়ার জন্য হাউজ ওয়্যারিং নিশ্চিত করা কেন এত জরুরি? অনলাইনে আবেদন করার পর আপনার বাড়ি বা দোকানটি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত কি না, তা কর্তৃপক্ষকে জানানোই হলো ওয়্যারিং নিশ্চিতকরণ। এই কাজটি সঠিকভাবে না করলে আপনার মিটারের আবেদনটি মাঝপথেই আটকে যেতে পারে বা দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকতে পারে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ১০টি মৌসুমি ফল - সুস্থতা জীবনের চাবিকাঠি 

হাউজ ওয়্যারিং করার সময় আপনাকে অবশ্যই বাজার থেকে একটি ভালো মানের গ্রাউন্ড রড কিনে সেটি বাড়িতে স্থাপন করতে হবে। এই রডটি কেনার পর দোকানদার আপনাকে যে ক্যাশ মেমো বা রশিদ দেবে, সেটি খুব যত্ন করে নিজের কাছে রাখুন। এরপর ওয়েবসাইটের নির্ধারিত অপশনে গিয়ে আপনার ট্র্যাকিং আইডি ব্যবহার করে সেই রশিদের একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করে দিন।

সবশেষে আপনার বাড়ির সম্পূর্ণ ঠিকানাসহ ওয়্যারিং এর তথ্য সাবমিট করলে আপনার কাজ শেষ হয়ে যাবে এবং একটি কনফার্মেশন মেসেজ পাবেন। তথ্যগুলো দেওয়ার সময় বারবার যাচাই করে নিন যেন কোনো ভুল না থাকে, কারণ ভুল তথ্যের কারণে সংযোগ পেতে দেরি হয়। সঠিক নিয়ম মেনে তথ্য ও মেমো আপলোড করলে আপনি খুব দ্রুতই আপনার নতুন মিটারটি হাতে পেয়ে যাবেন।

আবেদন ফি ও জামানত পরিশোধের সঠিক মাধ্যম

আপনি কি অনলাইনে আবেদন করার পর মিটারের টাকা কীভাবে জমা দেবেন তা নিয়ে ভাবছেন? বর্তমান সময়ে পল্লী বিদ্যুতের আবেদন ফি এবং জামানতের টাকা জমা দেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ হয়ে গেছে। এখন আপনাকে আর ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না, বরং আপনার হাতের মোবাইলটি দিয়েই এই কাজ সেরে নিতে পারবেন।

আবেদন ফি বাবদ ১১৫ টাকা সাধারণত রকেট (Rocket) অথবা ট্যাপ (tap) অ্যাপের মাধ্যমে খুব দ্রুত পরিশোধ করা যায়। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে বিকাশের পে-বিল (Pay Bill) অপশন ব্যবহার করেও এই ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকে। টাকা জমা দেওয়ার সময় আপনার আবেদনের ট্র্যাকিং আইডিটি সঠিকভাবে ইনপুট দিন যাতে আপনার পেমেন্টটি সরাসরি আপনার আবেদনের সাথে যুক্ত হয়ে যায়।

টাকা জমা দেওয়া সফল হলে আপনার ফোনে একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে এবং সেখানে একটি ট্রানজ্যাকশন আইডি দেওয়া থাকবে। এই মেসেজটি বা পেমেন্টের ডিজিটাল রশিদটি অবশ্যই যত্ন করে সংরক্ষণ করে রাখুন কারণ পরবর্তীতে এটি প্রমাণের জন্য প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক মাধ্যমে টাকা জমা দিলে আপনার আবেদনের পরবর্তী ধাপগুলো খুব দ্রুত গতিতে এগোতে শুরু করবে।

২০২৬ সালে একটি নতুন মিটারের মোট খরচ কত?

আপনি কি ২০২৬ সালে পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার নিতে ঠিক কত টাকা খরচ হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছেন? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একটি আবাসিক মিটার সংযোগ পেতে আপনাকে মূলত তিন থেকে চার ধাপে কিছু নির্দিষ্ট সরকারি ফি জমা দিতে হবে। প্রথমেই অনলাইন আবেদন করার সময় আপনাকে ১১৫ টাকা আবেদন ফি হিসেবে জমা দিতে হবে যা অফেরতযোগ্য।

এরপর আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হলে সদস্য ফি বাবদ ৫০ টাকা এবং মিটারের নিরাপত্তা জামানত হিসেবে আরও কিছু টাকা জমা দিতে হবে। আবাসিক বা সাধারণ বাড়ির মিটারের জন্য এই জামানতের পরিমাণ সাধারণত প্রতি কিলোওয়াটের জন্য ৪০০ টাকা হয়ে থাকে। তবে আপনি যদি বাণিজ্যিক বা সেচ কাজের জন্য বড় মিটার নিতে চান, তবে এই জামানতের পরিমাণ আরও কিছুটা বেশি হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ সাজেক ভ্যালি কোন জেলায় অবস্থিত - সাজেক ভ্যালির দর্শনীয় স্থান 

সব মিলিয়ে একটি সাধারণ বাড়ির মিটার সংযোগের জন্য আপনার সরকারি খরচ প্রায় ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকার আশেপাশে থাকতে পারে। এই টাকার বাইরে আপনাকে গ্রাউন্ড রড কেনা এবং ঘরের ওয়্যারিং এর জন্য আলাদা খরচ করতে হবে যা আপনার ব্যক্তিগত ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত। মনে রাখবেন, এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো টাকা কাউকে দেবেন না কারণ সকল লেনদেন এখন অনলাইনেই সম্পন্ন করা যায়।

আপনার আবেদনের সর্বশেষ অগ্রগতি যাচাই করার নিয়ম

আপনি কি অনলাইনে মিটারের আবেদন করার পর এখন সেটি কোন অবস্থায় আছে তা জানতে চাচ্ছেন? আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা চেক করা খুবই সহজ এবং এটি আপনি যেকোনো সময় নিজের মোবাইল থেকেই দেখে নিতে পারেন। প্রথমেই পল্লী বিদ্যুৎ আবেদনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে মেনু বার থেকে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা’ বা ‘Check Status’ অপশনটি খুঁজে বের করুন।

সেখানে ক্লিক করার পর আপনার সামনে একটি নতুন বক্স আসবে যেখানে আপনার সংরক্ষিত ট্র্যাকিং আইডি এবং পিন নম্বরটি দিতে হবে। এই দুটি তথ্য সঠিকভাবে লিখে ‘সাবমিট’ বাটনে চাপ দিলেই আপনার আবেদনের বর্তমান অবস্থা স্ক্রিনে ভেসে উঠবে। আপনার আবেদনটি বর্তমানে কোন টেবিলে আছে বা কোনো সমস্যা আছে কি না, তা এখান থেকেই পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।

যদি দেখেন আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে, তবে পরবর্তী ধাপ হিসেবে আপনাকে পেমেন্ট বা ওয়্যারিং এর কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। আর যদি কোনো কারণে আবেদনটি পেন্ডিং বা বাতিল দেখায়, তবে সেখানে দেওয়া কারণটি ভালো করে পড়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন করে নিন। এভাবে নিয়মিত খোঁজ রাখলে আপনি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার নতুন মিটারটি পেয়ে যাবেন।

বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও সঠিক উত্তর (FAQ)

আপনি কি পল্লী বিদ্যুতের নতুন মিটার এবং সংযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধায় আছেন? পাঠকদের মনে আসা সবচেয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর নিচে সহজভাবে দেওয়া হলো, যা আপনাকে পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে সাহায্য করবে।

প্রশ্ন: সার্ভিস পোল থেকে দূরত্ব ১৩০ ফুটের বেশি হলে কী হবে? উত্তর: সাধারণত সার্ভিস পোল বা খুঁটি থেকে দূরত্ব ১৩০ ফুটের বেশি হলে আপনাকে অতিরিক্ত খুঁটি বা লাইন নির্মাণের জন্য আলাদা আবেদন করতে হতে পারে। তবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের এলাকায় অনেক সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত বিনামূল্যে লাইন সুবিধা পাওয়া যায়, যা অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া ভালো।

প্রশ্ন: আবেদন করার কত দিনের মধ্যে মিটার পাওয়া যায়? উত্তর: অনলাইনে আবেদন এবং হাউজ ওয়্যারিং এর তথ্য সাবমিট করার পর সাধারণত ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সংযোগ দেওয়া হয়। তবে আপনার আবেদন অনুমোদন এবং পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর অফিসের টেকনিক্যাল টিম এসে জায়গা পরিদর্শন করে খুব দ্রুত মিটারের ব্যবস্থা করে দেয়।

প্রশ্ন: আমি কি আমার নামে একাধিক মিটারের আবেদন করতে পারব? উত্তর: হ্যাঁ, একই মালিকানাধীন আলাদা আলাদা ঘর বা প্রতিষ্ঠানের জন্য আপনি একই এনআইডি ব্যবহার করে আবেদন করতে পারবেন। তবে প্রতিটি সংযোগের জন্য আপনাকে আলাদাভাবে আবেদন ফি এবং জামানত জমা দিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: মিটার সংযোগের জন্য অতিরিক্ত কোনো খরচ বা ঘুস দিতে হয়? উত্তর: না, সরকারের নির্ধারিত ফি এবং জামানত ছাড়া পল্লী বিদ্যুতের মিটার পেতে অন্য কোনো অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। দালালের খপ্পর এড়িয়ে সব লেনদেন অনলাইনে বা অনুমোদিত ব্যাংকের মাধ্যমে করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার কোনো আর্থিক ক্ষতি না হয়।

লেখকের শেষকথাঃ ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬

প্রিয় পাঠকগণ, আশা করি ঘরে বসেই পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদন ২০২৬ এর নিয়মাবলী সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আপনাদের দিতে পেরেছি। অনলাইনে আবেদনের ধাপসমূহ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সঠিক খরচ কত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আপনি যদি কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে চান, তবে পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবেন।

এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। এই পোস্টটি যদি আপনার কাছে তথ্যমূলক ও ভালো লেগে থাকে, তবে অবশ্যই ওয়েবসাইটটি অন্যদের কাছে শেয়ার করবেন যেন তারাও দালালের খপ্পর এড়িয়ে ঘরে বসে মিটার নিতে পারে। এরকম আরও প্রয়োজনীয় তথ্য সবার আগে পেতে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাইতানহিয়াত আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url