অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন (Hyperpigmentation)
রোদের ক্ষতিকর প্রভাব বা সানবার্ন (Sun Damage)
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা মেলাজমা (Melasma)
ভুল বা নিম্নমানের প্রসাধনীর ব্যবহার (Chemical Reactions)
অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress & Sleep Deprivation)
ত্বকে মৃত কোষ বা ডেড সেল জমা হওয়া (Dead Skin Cells)
ব্রণের দাগ বা পিম্পল মার্কস (Post-Inflammatory Hyperpigmentation)
অপর্যাপ্ত পানি পান বা ডিহাইড্রেশন (Dehydration)
পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিনের অভাব (Vitamin Deficiency)
লিভার ও ইন্টারনাল অর্গানের সমস্যা (Internal Health Issues)
বয়সজনিত কারণ বা এইজ স্পট (Age Spots)
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects of Medications)
ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন (Smoking & Poor Lifestyle)
অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্লু-লাইট (Blue Light Exposure)
সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন না মানা (Lack of Proper Skincare)
অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন (Hyperpigmentation)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রধান
কারণ হলো অতিরিক্ত মেলানিন উৎপাদন। আমাদের ত্বকের ভেতরে মেলানোসাইট নামে
ছোট ছোট কোষ থাকে, যা থেকে মেলানিন নামের এক ধরণের রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়।
এই উপাদানটিই মূলত ঠিক করে দেয় যে আমাদের গায়ের রঙ ঠিক কতটা ফর্সা বা চাপা
হবে।
যখন এই কোষগুলো কোনো কারণে উত্তেজিত হয়ে শরীরের স্বাভাবিক প্রয়োজনের চেয়ে
অনেক বেশি মেলানিন তৈরি করে, তখনই বিপদ ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়
ত্বকের এই অতিরিক্ত মেলানিন জমে যাওয়ার সমস্যাকে ‘হাইপারপিগমেন্টেশন’ বলা
হয়ে থাকে। এর ফলে মুখের বা শরীরের চামড়ার কিছু কিছু জায়গায় ছোট-বড় কালচে বা
বাদামী রঙের ছোপ পড়ে যায়।
সাধারণত হরমোনের বড় কোনো পরিবর্তন, কড়া রোদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ থাকা কিংবা
ত্বকে কোনো ক্ষত হলে মেলানিন দ্রুত বাড়ে। যখন ত্বকের এক জায়গায় অনেক বেশি
মেলানিন জমা হয়ে যায়, তখন পুরো মুখের চামড়া অসম দেখায়। তাই ত্বককে কালচে
ভাব থেকে রক্ষা করতে মেলানিনের এই অতিরিক্ত উৎপাদনকে শুরুতেই আটকে দেওয়া
ভীষণ জরুরি।
রোদের ক্ষতিকর প্রভাব বা সানবার্ন (Sun Damage)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ খুঁজতে গেলে সূর্যের কড়া রোদের
নাম সবার ওপরে চলে আসবে। আমরা যখন কোনো প্রটেকশন ছাড়া সরাসরি রোদে বের হই,
তখন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের ওপর খুব বাজেভাবে প্রভাব ফেলে।
এই ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে বাঁচতে আমাদের ত্বক তখন নিজে থেকেই অনেক বেশি
মেলানিন তৈরি করা শুরু করে।
ত্বকের এই মেলানিন তৈরির ব্যবস্থার কারণেই মূলত আমাদের চামড়ায় তামাটে বা
কালচে ভাব চলে আসে, যাকে আমরা সান ট্যান বলি। আর রোদের তীব্রতা যদি অনেক
বেশি হয়, তবে ত্বক লাল হয়ে পুড়ে যায় এবং চামড়া ফোসকার মতো উঠতে শুরু করে।
চিকিৎসায় একে সানবার্ন বলা হয়, যা আপনার ত্বকের ভেতরের নরম কোষগুলোকে
চিরতরে নষ্ট করে দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে সানস্ক্রিন ছাড়া রোদে ঘুরলে ত্বকে অসম কালো দাগ, অকালে
বলিরেখা এবং মেছতার মতো জেদি সমস্যা দানা বাঁধে। রোদ থেকে ফেরার পর ত্বককে
ঠিকমতো ঠান্ডা না করলে এই কালো ভাব সহজে মুখ থেকে দূর হতে চায় না। তাই রোদ
থেকে ত্বককে বাঁচাতে প্রতিদিন বাইরে বের হওয়ার আগে একটি ভালো সানস্ক্রিন
ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা মেলাজমা (Melasma)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে একটি বড় কারণ হলো
শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। বিশেষ করে নারীদের গর্ভাবস্থায় কিংবা
থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে হরমোনের মাত্রা হঠাৎ করে অনেক ওঠানামা করে।
হরমোনের এই ওলটপালটের কারণে ত্বকে এক ধরণের বিশেষ কালো বা বাদামী ছোপ ছোপ
দাগ দেখা দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ত্বকের এই ধরণের জেদি কালো দাগকে মেলাজমা বা
আমাদের চেনা ভাষায় মেছতা বলা হয়। এই দাগগুলো সাধারণত আমাদের গাল, কপাল, নাক
এবং ঠোঁটের ওপরের অংশে জোড়ায় জোড়ায় বা ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ কোনো ফর্সা
হওয়ার ক্রিম বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করে এই মেছতার গভীর দাগ সহজে দূর করা যায়
না।
কড়া রোদে মেছতার জায়গাগুলো আরও বেশি কালচে হয়ে ওঠে এবং দ্রুত মুখের
অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই হরমোনের এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সঠিক
চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত ভালো মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
ভুল বা নিম্নমানের প্রসাধনীর ব্যবহার (Chemical Reactions)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ নিয়ে কথা বলতে গেলে ভুল বা
নিম্নমানের প্রসাধনীর ব্যবহার অন্যতম। দ্রুত ফর্সা হওয়ার লোভে অনেকেই না
জেনে বাজার থেকে সস্তা কিংবা নামহীন বিভিন্ন ধরণের নাইট ক্রিম কিনে মুখে
মাখেন। এই ধরণের নিম্নমানের প্রসাধনীতে পারদ বা মার্কারির মতো অত্যন্ত
ক্ষতিকর এবং কড়া কেমিক্যাল মেশানো থাকে।
এই বিষাক্ত কেমিক্যালগুলো ব্যবহারের শুরুতে ত্বককে কিছুটা উজ্জ্বল করলেও
আস্তে আস্তে ত্বকের চামড়াকে একদম পাতলা করে ফেলে। এর ফলে প্রসাধনীটির উল্টো
বিক্রিয়া বা কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন শুরু হয় এবং মুখের নরম চামড়া ভেতর থেকে
পুরোপুরি পুড়ে যায়। পরবর্তীতে ক্রিম ব্যবহার বন্ধ করলেই পুরো মুখ অতিরিক্ত
কালচে, খসখসে এবং কুৎসিত দেখাতে শুরু করে।
তাই চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে সবসময় ভালো ব্র্যান্ডের এবং
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রূপচর্চার জিনিস বেছে নেওয়া দরকার। নকল
প্রসাধনীর হাত থেকে নিজের ত্বককে বাঁচাতে যেকোনো পণ্য কেনার আগে সেটির
উপাদান এবং আসল-নকল ভালোভাবে যাচাই করে নেবেন।
অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ (Stress & Sleep Deprivation)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর ভেতর জীবনযাপনের একটি বড় ভুল
হলো অপর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ। আমরা যখন রাতে ঠিকমতো না
ঘুমিয়ে জেগে থাকি বা অনেক বেশি দুশ্চিন্তা করি, তখন আমাদের শরীরে কর্টিসল
নামের এক ধরণের ক্ষতিকর হরমোন তৈরি হয়। এই হরমোনটি ত্বকের স্বাভাবিক রক্ত
চলাচলকে একদম কমিয়ে দেয়, যার ফলে ত্বক তার ভেতরের সতেজতা হারাতে থাকে।
পর্যাপ্ত পুষ্টি আর অক্সিজেনের অভাবে তখন মুখের চামড়া দিন দিন কালচে,
নিস্তেজ ও ক্লান্ত দেখাতে শুরু করে। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে আমাদের চোখের
নিচে, যা ডার্ক সার্কেল বা চোখের চারপাশের কালো দাগ হিসেবে পরিচিত। তাই
প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে রাতে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর
ঘুম এবং মনকে চাপমুক্ত রাখা ভীষণ দরকার।
ত্বকে মৃত কোষ বা ডেড সেল জমা হওয়া (Dead Skin Cells)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ নিয়ে আলোচনা করলে ত্বকে মৃত কোষ
বা ডেড সেল জমা হওয়ার বিষয়টি চলে আসে। আমাদের ত্বকে প্রতিদিন
প্রাকৃতিকভাবেই নতুন নতুন কোষ তৈরি হয় এবং পুরনো কোষগুলো আস্তে আস্তে মরে
যায়। যদি আমরা নিয়মিত মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার বা এক্সফোলিয়েট না করি, তবে
এই মরা চামড়াগুলো মুখের ওপর একটা আস্তরণ তৈরি করে।
এই মৃত কোষের কালচে স্তরটি জমে থাকার কারণে বাইরের আলো ত্বকে প্রতিফলিত হতে
পারে না, ফলে মুখ ভীষণ মলিন দেখায়। শুধু তাই নয়, এই ডেড সেলগুলো লোমকূপ
বন্ধ করে দেয় এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও মসৃণ ভাব পুরোপুরি কেড়ে
নেয়। তাই ত্বককে সতেজ ও ফর্সা রাখতে সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুইবার হালকা
স্ক্রাব ব্যবহার করে মরা চামড়া দূর করা উচিত।
ব্রণের দাগ বা পিম্পল মার্কস (Post-Inflammatory Hyperpigmentation)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে একটি খুবই কমন সমস্যা
হলো ব্রণের দাগ বা পিম্পল মার্কস। আমাদের মুখে যখন ব্রণ বা পিম্পল হয়, তখন
সেই জায়গায় এক ধরণের ইনফ্লামেশন বা ত্বকের ভেতরের কোষের ক্ষতি হয়। ব্রণটি
ভালো হয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় ত্বক নিজেকে সারাতে গিয়ে হঠাৎ
করে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে ফেলে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ত্বকের এই অবস্থাকে ‘পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি
হাইপারপিগমেন্টেশন’ বলা হয়ে থাকে, যা দেখতে একদম কালচে বা গাঢ় বাদামী রঙের
হয়। বিশেষ করে যাদের নখ দিয়ে ব্রণ খোঁটাখুঁটি বা গালানোর বাজে অভ্যাস আছে,
তাদের ত্বকে এই জেদি কালো দাগগুলো অনেক বেশি গভীর হয়। এই দাগগুলো সহজে মুখ
থেকে দূর হতে চায় না এবং পুরো চেহারার সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়।
তাই মুখে ব্রণ হলে কোনো অবস্থাতেই হাত দেওয়া বা চাপ দিয়ে গলানো যাবে না,
বরং প্রাকৃতিকভাবে শুকাতে দিতে হবে। ব্রণের তীব্রতা বেশি হলে ত্বক
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সঠিক ক্রিম ব্যবহার করলে এই ধরণের কালো দাগের হাত
থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
অপর্যাপ্ত পানি পান বা ডিহাইড্রেশন (Dehydration)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে অন্যতম একটি বড় অবহেলা
হলো প্রতিদিন অপর্যাপ্ত পানি পান বা ডিহাইড্রেশন। আমরা যখন সারাদিনে শরীরের
প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করি না, তখন আমাদের ত্বক তার ভেতরের
স্বাভাবিক আর্দ্রতা বা ময়েশ্চার হারাতে শুরু করে। পানি কম খেলে শরীরের
ভেতরের ক্ষতিকর টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থগুলো প্রাকৃতিকভাবে বাইরে বের হয়ে
যাওয়ার কোনো সুযোগ পায় না।
এই টক্সিনগুলো রক্তের সাথে মিশে থাকার কারণে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের
মুখের চামড়ায়, ফলে ত্বক ভেতর থেকে শুকিয়ে যায়। আর্দ্রতাহীন নিস্তেজ ত্বক
বাইরের আলো শোষণ করে নেয়, যার কারণে পুরো চেহারা আস্তে আস্তে কালচে, খসখসে
ও মলিন দেখাতে শুরু করে। তাই ত্বকের স্বাভাবিক লাবণ্য এবং উজ্জ্বলতা ধরে
রাখতে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পরিষ্কার পানি পান করা অত্যন্ত জরুরী।
পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিনের অভাব (Vitamin Deficiency)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে আমাদের ভেতরের
পুষ্টিহীনতা এবং ভিটামিনের অভাব বড় ভূমিকা পালন করে। আমরা যদি প্রতিদিনের
খাবার তালিকায় পুষ্টিকর খাবার না রাখি, তবে ত্বক তার সুস্থতা বজায় রাখার
জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পায় না। বিশেষ করে শরীরে ভিটামিন বি-১২ এবং
ভিটামিন সি-এর বড় রকমের ঘাটতি তৈরি হলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা খুব
দ্রুত কমতে থাকে।
ভিটামিনের এই অভাবের কারণে ত্বকের নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং
মেলানিনের ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে কোনো কারণ ছাড়াই মুখের
চামড়া আস্তে আস্তে কালচে, খসখসে এবং একদমি ম্লান বা ছোপ ছোপ দাগযুক্ত
দেখায়। তাই ত্বককে ভেতর থেকে ফর্সা ও সতেজ রাখতে নিয়মিত তাজা ফলমূল,
শাকসবজি এবং পুষ্টিকর সুষম খাবার খাওয়া উচিত।
লিভার ও ইন্টারনাল অর্গানের সমস্যা (Internal Health Issues)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে আমাদের লিভার ও
ইন্টারনাল অর্গানের সমস্যা বা শরীরের ভেতরের রোগ অন্যতম। আমাদের লিভার ও
কিডনি যদি কোনো কারণে সঠিকভাবে কাজ করতে না পারে, তবে শরীরের ভেতরের
বিষাক্ত টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থগুলো বাইরে বের হতে পারে না। এই ক্ষতিকর
উপাদানগুলো রক্তের সাথে মিশে পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরাসরি আমাদের
ত্বকের ওপর এসে প্রভাব ফেলে।
আরো পড়ুনঃ টাইগার মুরগির ভ্যাকসিন তালিকা - টাইগার মুরগির খাবার তালিকা
রক্তে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মুখের চামড়া তার স্বাভাবিক লাবণ্য
হারিয়ে ক্রমান্বয়ে কালচে ও নিস্তেজ রঙ ধারণ করে। এছাড়া লিভারের জটিলতার
কারণে শরীরে মেলানিন হরমোনের উৎপাদনও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বেড়ে যায়,
যা ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগ তৈরি করে। তাই বাইরের রূপচর্চার পাশাপাশি শরীরের
ভেতরের অঙ্গগুলো সুস্থ আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ
নেওয়া ভীষণ জরুরি।
বয়সজনিত কারণ বা এইজ স্পট (Age Spots)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ নিয়ে কথা বলতে গেলে বয়সজনিত
কারণ বা এইজ স্পটের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া যায় না। আমাদের বয়স যখন আস্তে আস্তে
বাড়তে থাকে, তখন ত্বকের ভেতরের কোষগুলোর কার্যক্ষমতা এবং নতুন চামড়া তৈরির
গতি অনেকটাই কমে আসে। বিশেষ করে ৩০ বা ৪০ পার হওয়ার পর ত্বকের মেলানোসাইট
কোষগুলো এক জায়গায় দলা পাকিয়ে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি করে।
এই জমে থাকা মেলানিনের কারণে হাত, মুখ, কপাল বা গলার চামড়ায় ছোট ছোট গোল
আকৃতির বাদামী বা কালো রঙের ছোপ দেখা দেয়, যাকে চিকিৎসায় এইজ স্পট বলে।
বছরের পর বছর ধরে ত্বকে জমে থাকা সূর্যের আলোর ক্ষতিকর প্রভাবও মূলত এই
বয়সে এসে কালো দাগ হিসেবে ত্বকের উপরিভাগে ভেসে ওঠে। তাই বয়স বাড়ার সাথে
সাথে ত্বককে কালচে ভাব থেকে বাঁচাতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার এবং
ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Side Effects of Medications)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে একটি অজানা কিন্তু
গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিভিন্ন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। অনেক সময় আমরা
কোনো রোগের জন্য নিয়মিত যে ওষুধগুলো সেবন করি, সেগুলোর কারণেও আমাদের গায়ের
রঙ হঠাৎ বদলে যেতে পারে। বিশেষ করে জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, কড়া অ্যান্টিবায়োটিক,
ম্যালেরিয়ার ওষুধ কিংবা কিছু পেনকিলারের কারণে আমাদের ত্বকে মেলানিনের
উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়।
ওষুধের এই অভ্যন্তরীণ বিক্রিয়ার ফলে মুখের চামড়ায়, ঠোঁটে বা হাতের বিভিন্ন
অংশে কালচে বা ধূসর রঙের ছোপ ছোপ দাগ দেখা দিতে শুরু করে। সাধারণত ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে ওষুধ পরিবর্তন করলে বা চিকিৎসা শেষ হয়ে গেলে ত্বকের এই কালো ভাব
প্রাকৃতিকভাবে আবার ঠিক হয়ে যায়। তাই কোনো ওষুধ খাওয়ার পর ত্বকে হঠাৎ কালো
দাগ দেখা দিলে নিজে থেকে কোনো ক্রিম না মেখে সরাসরি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
উচিত।
ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন (Smoking & Poor Lifestyle)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে আমাদের প্রতিদিনের
ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বড় একটি ভুল। আমরা যখন নিয়মিত ধূমপান করি,
তখন তামাকের ক্ষতিকর নিকোটিন আমাদের শরীরের রক্তনালীগুলোকে একদম সংকুচিত বা
সরু করে দেয়। এর ফলে আমাদের মুখের ত্বকে রক্ত চলাচল কমে যায় এবং ত্বক
প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হয়।
শরীরে অক্সিজেনের এই ঘাটতির কারণে ত্বকের ভেতরের সতেজ কোষগুলো অকালে মরে
যায় এবং পুরো চেহারা দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে। শুধু তাই নয়, ধূমপানের ফলে
ত্বকে এক ধরণের কালচে ও ধূসর ভাব চলে আসে এবং ঠোঁটের চারপাশ স্থায়ীভাবে
কালো হয়ে যায়। তাই চেহারার স্বাভাবিক লাবণ্য এবং গায়ের উজ্জ্বল রঙ ধরে
রাখতে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করে একটি সুস্থ ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করা
ভীষণ জরুরি।
অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্লু-লাইট (Blue Light Exposure)
ত্বক বা স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার ১৫টি কারণ এর মধ্যে আধুনিক যুগের একটি বড় ও
ক্ষতিকর কারণ হলো অতিরিক্ত মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্লু-লাইট। আমরা প্রতিদিন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা যে স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে
তাকিয়ে থাকি, সেখান থেকে এক ধরণের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন দৃশ্যমান নীল আলো বা
ব্লু-লাইট নির্গত হয়। এই ক্ষতিকর নীল আলোটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির মতোই
আমাদের ত্বকের একদম গভীর স্তরে গিয়ে আঘাত করে।
স্ক্রিনের এই ব্লু-লাইটের সংস্পর্শে যখন আমাদের মুখের চামড়া দীর্ঘক্ষণ
থাকে, তখন ত্বকের ভেতরের কোষগুলো নিজেকে রক্ষা করতে অতিরিক্ত মেলানিন তৈরি
করা শুরু করে। এর ফলে কোনো রোদ ছাড়াই ঘরের ভেতরে বসে থাকলেও ত্বক আস্তে
আস্তে তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে কালচে ও ম্লান হতে শুরু করে। তাই
স্ক্রিন টাইমিং কমানোর পাশাপাশি ল্যাপটপ বা মোবাইলে কাজ করার সময়েও একটি
ভালো মানের সানস্ক্রিন বা ব্লু-লাইট প্রটেক্টিভ ক্রিম ব্যবহার করা ভীষণ
দরকার।
সঠিক স্কিন কেয়ার রুটিন না মানা (Lack of Proper Skincare)
মাইতানহিয়াত আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url